কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ এ ০২:৫০ PM
কন্টেন্ট: পাতা
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ চাঁদপুর জেলার একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ। কলেজটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ১ম ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে ১০ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখার ১৯/১১/২০১৮ তারিখের সরকারি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের উত্তর পাশের ৩য় তলায় ১৩টি কক্ষ নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। নিজস্ব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু না হওয়া পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ীভাবে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ হতে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) জন করে এবং ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৭৫ (পঁচাত্তর) জন করে এমবিবিএস শিক্ষার্থী ভর্তির সরকারি অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ হতে পুনরায় প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ (পঞ্চাশ) জন করে এমবিবিএস শিক্ষার্থী ভর্তির সরকারি অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থান নিম্নরূপ:
২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষ(চাঁমেক-০১): উক্ত শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ৫০ (পঞ্চাশ) জন শিক্ষার্থীর সকলেই চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন।
২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ (চাঁমেক-০২): উক্ত শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ৫০ (পঞ্চাশ) জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ (আটচল্লিশ) জন চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ইতোমধ্যে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেছেন এবং কয়েকজনের ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট ২ (দুই) জন শিক্ষার্থী চলতি বছরে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ (চাঁমেক-০৩): উক্ত শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত ৫০ (পঞ্চাশ) জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) জন চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ইন্টার্নশীপ কার্মক্রম শুরু করার মাধ্যামে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাঁসপাতালে সার্বক্ষনিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, বর্তমানে ২০২২-২০২৩ হতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ৩১৩ (তিনশত তেরো) জন এমবিবিএস শিক্ষার্থী চাঁদপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারের খালি ইউনিটগুলো ছাত্রীদের হোস্টেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ছাত্রদের হোস্টেল হিসেবে ভাড়া করা আবাসন ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রায় ৮,০০০ বর্গফুটের আরেকটি একাডেমিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে ভাড়া নেওয়ার হয়েছে এবং ‘বেসিক সায়েন্স’ বিভাগগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তরিত করে পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন ছাত্রী হোস্টেল জন্য অতিরিক্ত আবাসন ভাড়া নেওয়ার হয়েছে এবং ইন্টার্ন হোস্টেলের জন্য অতিরিক্ত আবাসন ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস (চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাঁসপাতাল এবং নার্সি কলেজ স্থাপন প্রকল্প)
চাঁদপুর শহরতলীতে অবস্থিত ইসলামপুর গাছতলা নামক স্থানে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মানের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত ডিপিপি অনুয়ায়ী “চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাঁসপাতাল এবং নার্সি কলেজ স্থাপন প্রকল্প” এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার মূলক উন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মহোদয় কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদনের পর জমি অধিগ্রহন কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই মূল কাঠামো নির্মান কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক সুবিধা সম্পন্ন বিশ্বমানের সবধরনের শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং নার্সিং কলেজের মাধ্যমে প্রতি বছর ১০০ জন দক্ষ নার্স তৈরী হবে। ফলে পূর্নাঙ্গ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাঁদপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশের জনগণের জন্য আধুনিক ও উন্নত সুবিধা সম্বলিত চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার সুযোগ অধিকতর সম্প্রসারিত হবে।